চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে কাউসার হামিদ ওরফে আবু কাউসার (২৭) নামক এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়ানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক আইডি-পেজ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, কাউসার ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাকে হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এমন দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে,এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে ঘটনাটির তদন্ত, পুলিশের বক্তব্য এবং প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, হত্যার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। বরং পুলিশের ভাষ্য ও ভিডিও ফুটেজে এটি আত্মহত্যার ঘটনাই প্রতীয়মান হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারিত কয়েকটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।
একাধিক গণমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেল ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে। ফুটেজে দেখা যায়, সোমবার রাতে কাউসার একাই হেঁটে সাগরিকা ফ্লাইওভারে ওঠেন। এরপর কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করার পর তিনি ফ্লাইওভার থেকে লাফ দেন। ঘটনাস্থলে অন্য কাউকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার রাত ৩টার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার দাবি ছড়ানো হলেও সেটি সঠিক নয়।
ওসি আরও জানান, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাও দায়ের করেছে পুলিশ।
সুতরাং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে” এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং পুলিশের বক্তব্য ও প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, কাউসার হামিদের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।